ঘটনাটি ঘটে সোমবার দুপুরে। পরদিন ভুক্তভোগী নারী সিলেট নগরের কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। অভিযুক্তরা হলেন মো. সামরান হোসেন চৌধুরী (রাজু) ও মো. মাহফুজুর রহমান।
ভুক্তভোগীর স্বামীর দাবি, আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের অপহরণের ভিডিও তার কাছে ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, এই বিষয়টি গোপন রাখতেই তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। পুলিশকে বিষয়টি জানালেও মামলার বিবরণ পাল্টে মূল ঘটনা আড়াল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারী (২৮) সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বাসিন্দা। তার স্বামী সিলেট নগরের একটি প্রকল্প পরিচালনা করছিলেন এবং পরিবার নিয়ে ওই প্রকল্প এলাকার একটি বাসায় বসবাস করছিলেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, অভিযুক্তদের একজন মো. সামরান হোসেন চৌধুরী প্রকল্পে শেয়ারধারী এবং ভুক্তভোগীর স্বামীর নিয়োগকর্তা। অন্য অভিযুক্ত মো. মাহফুজুর রহমান (৪২) প্রকল্প এলাকার একটি খালি জমি ইজারা নিয়ে চাষাবাদ করতেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, মাহফুজুর ইজারার সুবাদে প্রায়ই ভুক্তভোগীর বাড়িতে যেতেন। গত ২৭ ডিসেম্বর মাহফুজুর, সামরানের সহায়তায়, ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। এরপর এ কাজ বারবার চালিয়ে যান। সামরান ফোনে সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে এসব ভিডিও এবং ছবি দিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয় এবং অস্বীকৃতি জানালে তাকে এবং তার স্বামীকে হুমকি দেওয়া হয়।
গত ৬ জানুয়ারি অভিযুক্তরা পুনরায় ভুক্তভোগীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করলে তিনি ফোনে তার স্বামীকে জানান। এরপর তার স্বামী ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।
ভুক্তভোগীর স্বামী আরও অভিযোগ করেন, ১৩ ডিসেম্বর গভীর রাতে আওয়ামী লীগ নেতা মিসবাহ উদ্দিন সিরাজকে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারীরা তাকে সাগরদিঘী পার এলাকায় আহত অবস্থায় ফেলে যায়। পরে তার পরিবার তাকে উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। স্বামী দাবি করেন, মিসবাহের অপহরণে জড়িতরা তার স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছে। এছাড়া, অপহরণের সিসিটিভি ফুটেজ তার মোবাইল ও কম্পিউটারে সংরক্ষিত ছিল বলে জানান তিনি। এই কারণে পরিবারটি বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়।
কোতোয়ালি থানার ওসি মো. জিয়াউল হক বুধবার সন্ধ্যায় বলেন, "ধর্ষণের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে এবং মামলা রুজু করা হয়েছে। তবে অপহরণের অভিযোগ সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।"
উল্লেখ্য, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজকে গত ১৩ ডিসেম্বর রাত সাড়ে তিনটায় সাগরদিঘী পার এলাকা থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওই রাতেই তার অস্ত্রোপচার করা হয় এবং পরদিন তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে মিসবাহ উদ্দিন আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ছাত্র ও জনতার বিক্ষোভে হামলার ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে। মাঝে মাঝে রাতের বেলায় তিনি লুকিয়ে বের হতেন। এমনই এক সময় তাকে অপহরণ করা হয়। তবে পুলিশ এ ঘটনা নিশ্চিত করলেও মিসবাহ বা তার পরিবার থেকে এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়নি।